খুশীর ব্যাপারটা আমার কাছে স্পষ্ট হয়ে এলো

January 5, 2014 | By Admin | Filed in: প্রেমকাব্য.

তখন আমি বিধস্ত এক তরুন। মা নেই। সবচেয়ে বড় বোন পাপড়ি বাড়ী ছেড়ে পালিয়েছে। আমার পিঠেপিঠি তিন বছরের বড় বোন মৌসুমী ইউনিভার্সিটি পড়ার জন্যে অনেক দূর শহরে থাকে। বাবার ব্যবসার খুবই মন্দাভাব। সবচেয়ে ছোট বোন ইলা, আমার চাইতে ছ বছরেরও ছোট। অনেক দুশ্চিন্তা মাথায়। মেয়েদের প্রতি আগ্রহ বলতে গেলে নেই। তারপরও, পরবর্তী ছুটির দিনে পা বাড়ালাম লোকালয় এর দিকে।

মৎস্য অফিসার এর বাস ভবন। সমুদ্র এলাকা শেষ হয়ে, লোকালয় শুরু হবার ঠিক শুরুতেই। বিশাল আঙ্গিনা জুড়ে একটা বাড়ী। আমি সে বাড়ীর উঠানেই চুপি দিলাম।

খুশী কলেজ পোশাকে যেমনিই দেখতে, ঘরোয়া পোশাক অপূর্ব! উঠানে বসা, টেনিস বল নিয়ে একাকী খেলছে। পরনে হলদে রং এর হাত কাটা টপস, আর সাদা রং এর হাফ প্যান্ট। বাড়ীর দেয়ালের এ পাশে আমাকে দেখতেই টেনিস বলটা শূন্যে ছুড়ে আবারো হাতে নিয়ে ডাকলো, ও, রাখাল? ওখানে দাঁড়িয়ে কেনো? ভেতরে এসো!আমি গেটটা পেরিয়ে ভেতরেই ঢুকলাম। সব সময় নিজ মা বোনদেরই খুব সেক্সী ভাবতাম। খুশীকে দেখে মনে হলো, আমার নিজ মা বোনদের চাইতেও সুন্দরী, সেক্সী মেয়ে এই পৃথিবীতে অন্যটিও আছে। আর সে হলো খুশী। হলদে সেমিজ এর মতো পাতলা সেমিজটার ভেতরে ব্রা এর স্পস্ট ছাপ। স্তন দুটি আমার পিঠেপিঠি বড় বোন মৌসুমীর স্তন এর দ্বিগুনই হবে। খুশী টেনিস বলটা শূন্যে ছুড়ে ছুড়ে খেলতে থাকলো। আমি কাছাকাছি এসে বললাম, না মানে, তোমাদের বাড়ীটা চিনতে এসেছিলাম। কি করছো?
খুশী বলটা শূন্যে ছুড়তে ছুড়তেই বললো, বলেছিনা, ছুটির দিনে খুব বোর লাগে। বাবার তো শুধু কাজ আর কাজ। আর মা? উইমেনস ক্লাব এর খোঁজ পেয়েছে। আর কি বাড়ীতে থাকে?
আমি বললাম, তুমি খুব সুন্দর!
আমার কথা শুনে খুশী টেনিস বলটা হাতে থামিয়ে বললো, এই কথা বলার জন্যেই কি এসেছো?
আমি বললাম, না, তোমাদের বাড়ীটা চিনতেই এসেছিলাম। তুমি খেলো। আমি আসি।
এই বলে আমি ফিরতে থাকলাম। খুশী পেছন থেকেই ডাকলো, এই রাখাল? রাখাল? না মানে রাখাল নয়, তোমার নাম তো রাখালই!
আমার কেনো যেনো কিছুই ভালো লাগলো না। খুশীর ডাক আমার কানে এলোনা। আমি দ্রুত পা ফেলে বাড়ীর পথেই রওনা হলাম।তখন শুধু মেয়েদের প্রতি কেনো, জীবনের প্রতিও কোন আগ্রহ ছিলো না। মাকে হারিয়ে বাবা এক প্রকার শয্যাশায়ী। খুব বেশী ভালোবাসলে মানুষ কি এমনই হয় নাকি? আমার সবচেয়ে ছোট বোন ইলা। আমার চাইতে প্রায় ছয় বছরের ছোট। সে যদি না থাকতো, আমাদের বাড়ীতে বুঝি আরো বেশী আঁধার নেমে আসতো।

কয়টা দিন কলেজে যাইনি। খুব বেশী কারন ছিলো না। লেখাপড়ার প্রতিও কেমন যেনো আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছিলাম।
ছুটির দিন বারান্দায় এসে দাঁড়িয়েছিলাম। অবাক হয়ে দেখলাম এক দল রাখাল বালক বালিকা, ঠিক আমাদের বাড়ীর সামনে। আর তাদের মাঝেই রাজকন্যার মতোই যে মেয়েটি দাঁড়িয়ে আছে, সে হলো খুশী।আমি অবাক হয়েই বললাম, খুশী, তুমি?
খুশী রাখাল বালক বালিকাদের বিদায় করে দিয়ে ডান হাতে মুখটা ঢেকে বললো, তোমাদের বাড়ীটা চিনছিলাম না। ওরা চিনিয়ে দিলো। কলেজে যাওনা কেনো?
কলেজে কেনো যাইনা, তাতো আমি নিজেও জানিনা। বললাম, এমনিতেই। আগামীকাল থেকে যাবো।
খুশী বললো, তাহলে আমি যাই।
আমি বললাম, বাড়ীতে এলে, ভেতরে আসবে না।
খুশী বললো, তুমিও ঐদিন আমাদের বাড়ীটা চিনতে গিয়েছিলে। আমিও তোমাদের বাড়ীটা চিনতে এলাম। কাটাকাটি। এখন যাই।

খুশী সত্যি সত্যিই বিদায় নিলো। সেদিন খুশীদের বাড়ী থেকে বিদায় নেবার সময়, খুশী পেছন থেক ডেকেছিলো। আমি ডাকলাম না। সব কিছুতে তো আর কাটাকাটি খেলা ভালো লাগে না।সেদিন সন্ধ্যার কিছু আগে। এমনিতেই হাঁটতে বেড়িয়ে ছিলাম।

আমাদের বাড়ীটা ফেলে বেশ কিছুদূর এগুলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে কয়টা বাড়ী। অধিকাংশই জেলে সম্প্রদায়। তারপর লোকালয়ে পা দিতেই প্রথমে পরে মৎস্য অফিসার এর সরকারী বাস ভবনটা। বিশাল এলাকা জুড়ে একটা বাড়ী। এমন বিশাল বাড়ী বোধ হয় এলাকার ডি সি সাহেবেরও নেই।

আমি বাড়ীটার পাশ কেটে যেতেই মেয়েলী একটা কন্ঠ শুনতে পেলাম, খোকা ভাই?
আমি পাশ ফিরে তাঁকালাম। দেখলাম জানালার ওপাশে খুশী দাঁড়িয়ে। স্নিগ্ধ একটা চেহারা। চুল গুলো গুছিয়ে পেছনে বাঁধা। কপালটা সামনের কাটা চুলে ঢাকা। লম্বাটে চেহারায় ঈষৎ চৌকু ঠোট। পরনে কালো স্কীন টাইট জিমন্যাস্টিক ড্রেস। গলার দিকটা অসম্ভব প্রশস্থ বলে সুবৃহৎ স্তন যুগলের ভাঁজ স্পষ্ট। খুব বেশীক্ষণ তাঁকিয়ে থাকা যায়না। চোখ ঝলসে যায়।
আমি বললাম, ও, খুশী? আমার এই নাম জানলে কি করে?
খুশী বললো, তোমাকে তো ঐদিন রাখাল নামে কেউ চিনলো না। যতই জিজ্ঞাসা করি, সবাই শুধু রাখাল বালকদেরই ডেকে দিলো। তাদেরই একজন বললো, ও, খোকা ভাই। ওই তো খোকা ভাইদের বাড়ী।
আমি বললাম, হ্যা, মা সব সময় খোকা বলে ডাকতো। তখন থেকে সবাই আমাকে খোকা বলেই জানে।
খুশী বললো, ভেতরে এসো। বাসায় কেউ নেই।
আমি কোন দ্বিধা করলাম না। দরজাটার দিকেই এগিয়ে গেলাম।খুশী দরজার কাছে এসেই চৌকাঠটা ধরে দাঁড়িয়েছিলো। খুব কাছাকাছি থেকে খুশীকে দেখে আমার মনটা রোমাঞ্চতায় ভরে উঠতে থাকলো। এত মিষ্টি কারো চেহারা হয় নাকি? আর এত মিষ্টি ঠোট? বুক দুটি অসম্ভব উঁচু। মনে হয় বড় সাইজের দুটু কাঁচা ডাব তার জিমন্যাস্টিক ড্রেসটার ভেতর লুকিয়ে রেখেছে। আর তারই একাংশ গলের দিকটা দিয়ে বেড়িয়ে, জিমন্যাস্টিক ড্রেসটাকেও ফাটিয়ে ফাটিয়ে বেড়িয়ে আসতে চাইছে। আমি মুগ্ধ নয়নেই খুশীর দিকে তাঁকিয়েছিলাম।
খুশী বললো, এক্সারসাইজ করছিলাম। একা একা বোর লাগে। তাই মোটিয়ে যাচ্ছি। মাঝে মাঝে এক্সারসাইজ করি।
আমি বললাম, বোর লাগলে কি মোটিয়ে যায় নাকি?
খুশী বললো, বোর লাগা মানেই একটা না একটা কিছু মুখে দেয়া। ওই ছেলেদের দেখো না, কি রকম সিগারেট টানে? ওসব হলো বোর থেকে বাঁচার জন্যে। তখন মোটা হয়না। আর মেয়েরা চুইঙ্গাম, চকলেট, এটা সেটা মুখে চিবিয়েই থাকে। আর আমি? ফ্রীজ বলো, কিচেন সেলফ বলো, যা পাই সব সাবার করি।
আমি বললাম, ও, খালা খালু কোথায়? তোমার অন্য ভাই বোনরা?
খুশী বললো, বাবার অফিস আটটা পাঁচটা, অথচ রাত দশটা বাজলেও তার কাজ শেষ হয় না। মা? ঠিক আমার মতোই। খালি বোর লাগে। ওই যে বলেছিলাম, উইম্যানস ক্লাবটার খোঁজ পেয়েছে! মাও সেখানে রত আট নটা পর্য্যন্ত মেতে থাকে। আর ভাই বোন এর কথা বলছো? আমি তো একা! অন্য কোন ভাই বোন থাকলে কি আর এত বোর লাগতো? ঠিক আছে, তুমি ভেতরে এসে বসো। আমি হাত মুখটা ধুয়ে একটু ফ্রেশ হয়ে আসি।
এই বলে খুশী বাথরুমটার দিকেই এগিয়ে গেলো।সুন্দর সাজানো গোছানো পরিপাটি একটা ঘর। আমি সোফাটায় গিয়ে বসলাম। চারিদিক চোখ ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখতে থাকলাম। ওপাশে শো কেইস, তার উপর যেমনি অনেকগুলো সীল্ড, ট্রফি, দেয়ালেও অসংখ্য মেডেল ঝুলছে। আমি কৌতুহল নিয়েই শোকেইসটার ধারে এগিয়ে গেলাম। বাম পাশের প্রথম সীল্ডটাতেই চোখ রাখলাম।
বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগীতা ১৯৭৯
একশত মিটার দৌড় প্রথম বিজয়ী

আমি পরের সিল্ডটার দিকেও চোখ বুলালাম। তাতেও ১৯৮০ সালের বিজয়ী লেখা। একে একে সবগুলো সীল্ডে চোখ বুলিয়ে, ট্রফিটার উপরই চোখ রাখলাম।
আন্ত স্কুল বাস্কেট বল টুর্নামেন্ট ১৯৮২
বিজয়ী ছাত্রী দল

নতুন ভিডিও গল্প!

তারপর, এপাশে দেয়ালের গায়ে মেডেলগুলোও দেখতে থাকলাম।
আন্ত কলেজ সাতার প্রতিযোগীতা ১৯৮৪
প্রথম বিজয়ী

বাথরুম এর দরজাটা খোলাই ছিলো। খুশী বাথরুম থেকেই বললো, সবই আমার অর্জন করা।
আমি বাথরুম এর খোলা দরজাটার দিকেই তাঁকালাম। বাথরুম এর আয়নাতেই খুশীকে দেখলাম। বললাম, তুমি তো দেখছি ভালো স্পোর্টস গার্ল। সাতারও তো ভালো জানো দেখছি।
খুশী তোয়ালেটা হাতে নিয়ে হাত মুখ মুছতে মুছতে বসার ঘরে এগিয়ে এলো। বললো, হুম, ছোটকাল থেকেই স্পোর্টস এর উপর খুব ঝোক ছিলো।খুশী তোয়ালেটা ঘাড়ে প্যাচিয়ে আমার দিকেই এগিয়ে এলো। মেডেলটা দেখিয়ে বললো, এটা গত বছর।
আমি বললাম, এখানে সাগর আছে। চাইলে সাগরেও সাতার কাটতে পারো।
খুশী বললো, হুম, খুব ইচ্ছে করে। আগে যে শহরে থাকতাম, বলেছি না নদীর ধারে। সত্যিই নদীর খুব কাছেই আমাদের বাসাটা ছিলো। প্রতিদিন নদীতে সাতার কাটতাম। আর এখানে? সাগর কত দূর!
আমি বললাম, দূর কোথায়? মাত্র তো তিন কিলোমিটার। তুমি তো দৌড়েও ভালো। জগিং করতে করতেও তো যাওয়া যায়।

খুশী তোয়ালেটা রেখে, ও পাশে দেয়ালের গায়ে ঠেস দিয়ে বসলো। বললো, তা যাওয়া যায়। কিন্তু, মেয়ে মানুষ। একা একা খুব লজ্জা করে। তা ছাড়া আমার বাড়ন্ত বুক। একটু ছুটাছুটি করলেই সবার চোখে পরে। ছেলে বুড়ু সবাই আমার বুকের দিকেই হা করে তাঁকিয়ে থাকে। দেখে মনে হয় আমার বুকে বুঝি খুব সুস্বাদু খাবার আছে।

আমি এক পলক খুশীর বুকের দিকেই তাঁকালাম। দুষ্টুমী করেই বললাম, তা ভুল বলো নি। আমারও কিন্তু মনে হয়, তোমার বুকে প্রচণ্ড রকমের মজার দুটি খাবার আছে।
খুশী মুচকি হেসে বললো, না নেই। ওসব সব মেয়েদেরই থাকে। আমার গুলো একটু বেড়ে গেছে। এতটুকুই শুধু পার্থক্য।
খুশীর সাথে এত সহজ ভাবে কথা বলতে পারবো, নিজেও বুঝতে পারিনি। বললাম, সেই পার্থক্যটাই সবার চোখে পরে।খুশী ঘাড়টা কাৎ করে বললো, বাদ দাও ওসব। তোমার কথা বলো। তোমার কোন কিছুই তো জানা হলো না।
আমি বললাম, গত দু বছর আগে মা মারা গেছে। সবচেয়ে বড় বোন, সেও বিয়ে করে অন্যত্র চলে গেছে। ছোট আপা ইউনিভার্সিটিতে পড়ে। বাড়ীতে থাকে না। বাড়ীতে শুধু আমার ছোট বোন ইলা। আর বাবা। বাবা মায়ের শোকে খানিকটা কাতর হয়ে অনেক দুর্বল হয়ে গেছে। বাবার ব্যাবসাগুলো আমি দেখতে চাই, অথচ বাবা তা করতে দেয় না।
খুশী বললো, তোমার বাবা ঠিকই তো করে। এই বয়সে কি ব্যাবসা করবে? ব্যাবসায়ী কথাটা শুনলেই মনে হয়, বুড়ু পেট মোটা একটা মানুষ।
আমি কিছু বললাম না। চুপচাপই থাকলাম। খুশী বললো, ওই যে বললে তোমার ছোট বোন। নিশ্চয়ই খুব কিউট! কিসে পড়ে?
আমি বললাম, এখনো খুব ছোট। আমার চাইতে প্রায় ছয় বছরে ছোট। এখন সিক্সে।
খুশী আনন্দিত চেহারা করে বললো, উফ ভেরী কিউট তাহলে।
আমি বললাম, হুম, আমাদের ভাই বোনদের মাঝে ইলাই শুধু মায়ের আদল পেয়েছে। ঠিক মায়ের মতোই গেঁজো দাঁত।
খুশী বললো, গেঁজো দাঁত কি তোমার অপছন্দ?
আমি বললাম, অপছন্দ কেনো হবে? মায়ের গেঁজো দাঁতের হাসি আমার কাছে খুবই অপূর্ব লাগতো। ইলা হাসলেও ঠিক তেমনটি লাগে।
খুশী বললো, উফ, তোমার বোনটিকে আমার এক্ষুণি দেখতে ইচ্ছে করছে। জানো, ছোট ছোট ছেলে মেয়ে দেখলে আমার খুব আদর করতে ইচ্ছে করে। আমার যদি ছোট কোন ভাই বোন থাকতো!খুশী সত্যিই চমৎকার একটি মেয়ে। যেমনি মিষ্টি চেহারা, দীর্ঘাঙ্গী চমৎকার দেহের গড়ন, ঠিক তেমনি কথা বার্তাতেও। সুবৃহৎ উঁচু বুকটা যেমনি দেহে উষ্ণতা জাগিয়ে তুলে, ঝক ঝক করা সমতল সাদা দাঁতের হাসিও মন উদাস করে দেয়। খুশী মিষ্টি হাসি উপহার দিয়েই বললো, তুমি আমার বন্ধু হবে?
আমি মনে মনে বললাম, বন্ধু তো তোমার হয়েই আছি। শুধু মুখ ফুটিয়ে বলতে পারছিলাম না। তবে, মুখে বললাম, তোমার কাছে কি শত্রু বলে মনে হয়?
খুশী বললো, না, সে রকম কোন কিছু বলছি না। বলছি, এই ধরো তোমার সাথে কোথাও বেড়াতে গেলাম। মুক্ত আকাশের নীচে প্রাণ খুলে কথা বললাম। সমুদ্রের বালু চড়ে ছুটাছুটি করলাম। এই সব আর কি। মানে বোজোম ফ্রেণ্ড। আর মাঝে মাঝে শুধু তোমার ছোট বোনটাকে একটু আদর করতে দেবে।
আমি বললাম, বেশ তো।
খুশী বললো, ওকে, প্রোমিজ। আজ থেকে তুমি আমার বন্ধু, শুধু বন্ধু।
আমি বললাম, শুধু বন্ধু? আর কিছু হতে পারি না?
খুশী খিল খিল করেই হাসতে থাকলো। বললো, ছেলেদের ওই এক স্বভাব। বসতে দিলে শুতে চায়। বন্ধু বানাতে চাইলে, প্রেমিক হয়ে যেতে চায়।
আমি বললাম, ও তার মানে তোমার কোন প্রেমিক আছে, এই তো?
খুশী বললো, ধ্যাৎ, ওসব নিয়ে আমি কখনোই ভাবিনি। সব সময় স্পোর্টস নিয়ে ব্যাস্ত থাকি। ভেবে দেখার সময়ও পাইনা।
আমি বললাম, কখনো কারো সাথে প্রেম করবে না?
খুশী বললো, ওসব সময় হলে দেখা যাবে। আপাততঃ তুমি আমার বন্ধু।খুশীকে ঠিক বুঝতে পারলাম না। উচ্ছল প্রাণবন্ত একটি মেয়ে। এমন একটি মেয়েকে প্রেমিকা করে নিতে যে কোন ছেলেই চাইবে। এতটুকু আত্ম বিশ্বাস তার আছে। আর তাই ছেলেদের বুঝি বন্ধু ছাড়া আর কিছু ভাবে না।

এটা ঠিক, আমি খুশীর খুব প্রেমেই পরে গিয়েছিলাম, প্রথম দেখার দিন থেকেই। আর কয়টা দিন কলেজে যাইনি খুশীকে ভুলে থাকার জন্যে। কারন, খুশীকে দেখে আমার অনুমান হয়েছিলো, সাধারন কোন মেয়ে সে নয়। মেয়ে হিসেবে অনেক উঁচু সারির। প্রেমে পরে কষ্টেই পরতে হবে।
যা ভেবেছিলাম, তাই হলো। খুশীর প্রতি আমার আগ্রহটা মুহুর্তেই নষ্ট হয়ে গেলো। আমি বললাম, আজ তাহলে আসি।
খুশী বললো, আরেকটু বসো না। মা ফিরে এলে চলে যেও। একা একা আমার ভালো লাগবে না।

খুশীর ব্যাপারটা আমার কাছে স্পষ্ট হয়ে এলো। আসলে বাড়ীতে একা একা বোর লাগে বলেই, একজন কথা বলার সংগী চাইছে। এমন মেয়েরা খুবই স্বার্থপর হয়ে থাকে। প্রয়োজন এর সময় কাছে ডেকে নেয়, প্রয়োজন ফুরিয়ে গেলে লাথি মেরে তাড়িয়ে দেয়। তারপরও আমি খুশীর কথা রাখলাম।

খুশীর মা ফিরে এলো রাত আটটার দিকে। খুশী খুব আগ্রহ করেই তার মায়ের সাথে পরিচয় করিয়ে দিলো, মা, আমার বন্ধু। রাখাল।
খুশীর মাকে একটু রসিক বলেই মনে হলো। বললো, ও, রাখাল বন্ধু?
খুশীর মাকে আমার খুবই পছন্দ হয়েছিলো।


Tags: , , , , , , , , , , , ,

Comments are closed here.