কোন কূলে যে ভীড়লো তরী (পর্ব-৩৬)

October 5, 2021 | By Admin | Filed in: বৌদি সমাচার.

লেখক – কামদেব

[৩৬]—————————

     পান্থ নিবাস এপার্টমেণ্টের ইলেক্ট্রিকের কাজ শেষ নীচে মেন সুইচ লাগাচ্ছে,রকিব এসেছে যদি কিছু পেমেণ্ট পাওয়া যায়।অ’ফিসে অ’শোক বাবু বসে কারো জন্য অ’পেক্ষা করছেন।রকিব ঢুকে জিজ্ঞেস করে,আপনি কোথাও বেরোচ্ছেন স্যার?
–হ্যা কেন,কিছু বলবি’?
–আজ যদি মা’নে–।
–কোনো পার্ট পেমেণ্ট নয়,কাজ হয়ে গেছে বি’ল করে দে ফুল পেমেণ্ট পেয়ে যাবি’।
রকিব দাঁড়িয়ে ইতস্তত কর।অ’শোকবাবু জিজ্ঞেস করে, আর কিছু বলবি’?
–ঠিক আছে তিন-চারদিনের মধ্যে বি’ল করে দেবো।আচ্ছা স্যার সেদিন যে ম্যাডাম এসেছিলেন উনার পুরা নাম কি?
–খাদিজা আক্তার সোম কেন তুই চিনিস?
–না না চিনবো কেমন করে,দেখে ঠিক হিন্দু মনে হয় নি তাই।আজকাল এইসব কেউ মা’নে না। রকিব জানে যদি সব কথা খুলে বলে তাহলে সবাই তাকে পাগল বলবে।কাফেরকে নিকা করেছে?ডাক্তারকে মনে হল বেশি বয়স না।তাকে বোধ হয় চিনতে পারেনি।শেখ সুকুর আলি’কে ঢুকতে দেখে দ্রুত সরে গেল রকিব।খুনে মস্তান সুকুরকে সে ভাল করে চেনে।অ’ফিসে ঢুকে অ’শোককে জিজ্ঞেস করে,বস লরি কখন আসবে?
–আয় সুকুর,এখুনি এসে যাবে।তুই বোস।
–তুমি চাবি’ নিয়েছো?সুকুর জিজ্ঞেস করে।
–এই নে চাবি’।তিন তলায় ফ্লাট।কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে নে।
সুকুর আলি’ হেসে বলল,তুমি চিন্তা কোরনা বস,তুমি চুপচাপ লরিতে বসে থাকবে।
–না আমি খুনোখুনি চাইনা।

রিক্সা হতে কলেজের নীচে নামলো খাদিজা বেগম। অ’ফিস পেরোতে গিয়ে কমলাদির সঙ্গে চোখাচুখি হতে জিজ্ঞেস করে,কমলাদি খবর ভাল তো?
কমলা চেয়ার থেকে উঠে বেরিয়ে এসে ম্যাডামের কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিস ফিস করে বলল, অ’নেক খবর আছে পরে বলবো।
মা’নুষের সমস্যার শেষ নেই।একটা’কে বি’দায় করো অ’মনি আরেকটা’ কোথা থেকে এসে হা’জির। এতদিন পরে আবার ঐ লোকটা’র সঙ্গে দেখা হবে কি ভেবেছিল? দেবকে বলতে কেমন নির্বি’কার মনে মনে হা’সে খাদিজা বেগম,ভাল স্বামী পেয়েছে।
–একি তোমা’র ঠোটে কি হল? সামনে দাঁড়িয়ে শ্রীময়ী।
খাদিজা হকচকিয়ে যায়,খেয়াল ছিল না ঠোটের কথা নিজেকে সামলে নিয়ে বলল,কি জানি অ’ন্ধকারে বুঝতে পারিনি কি পোকা। এমন জ্বালা করছিল।
–তোমা’র ভুমিশয্যা কবে শেষ হবে? মা’টিতে শোয়ার এই এক বি’পদ।
শ্রীময়ী বি’শ্বাস করেছে বলল,অ’শোকবাবু তো বলল কাল-পরশুর মধ্যে হয়ে যাবে। আজ নাকি ফার্নিচার আনাবে।
–তোমা’র ফ্লাটটা’ দারুণ হয়েছে,ড.সোম দেখেছে?
–দেখেছে,ওর এসব বি’ষয়ে কোন ইণ্টা’রেষ্ট নেই।
–খালি’ ফ্লাটের মা’লকিনের ব্যাপারে ইণ্টা’রেষ্ট?হি-হি-হি।
খাদিজা যেতে যেতে শ্রীময়ীর ঠাট্টা’টা’ উপভোগ করে।ক্লাসে যাবার আগে বাথরুমে গিয়ে আয়নায় দেখল নিজেকে।ইস কি দশা করেছে ঠোটের রাক্ষসটা’।একটা’ চিন্তা মা’থায় আসতে অ’বাক হয় খাদিজা।রেজিস্ট্রি করার কথা কেন মনে হল? সেকি ভয় পাচ্ছে?আবার ভাবে করে রাখলে দোষ কি?

দত্তপুকুর থেকে দিদি এসেছে সঙ্গে এসেছে চাঁপারানী।ভাইকে বার বার খবর দিয়েও কাজ হয় নি তাই চাপাকে সঙ্গে নিয়েই হা’জির আরতি।মা’র বয়স হয়েছে আর কতদিন হেঁসেল ঠেলবে।ওস্তাদ দেশে গেছে চাষবাস দেখতে,মদনের হা’তে কাজ নেই।আরতি ভাইকে বলল,মদনা চাঁপারে একটু ঘুরায়ে দেখা আশ পাশ। উদ্দেশ্য দেখার ছলে উভয়ে মন জানাজানি করে নিক।
কোথায় নিয়ে যাবে চাপাকে,বেশি দূরে রিক্সা করে ঘুরতে গেলে পয়সা খরচ। বৌদির কথা মনে পড়ল,ওস্তাদ বাড়ী নাই এই সুযোগে বৌদির মতটা’ও জানা যাবে।মদন চলতে চলতে চাপার হা’ত ধরে,চাপা বুঝলেও কিছু বলে না।
সবি’তা কাজ সেরে সবে ফিরেছে এমন সময় মদন উপস্থিত।সবি’তা ফিসফিসিয়ে বলে, উস্তাদ দ্যাশে গেছে তুমি জানতা না,অ’খন আসছো?পিছনে চাপাকে দেখে জিজ্ঞেস করে, এইডা কেডা?
–চাপা,দত্তপুকুর থাকে দিদির সঙ্গে এসেছে। এইটা’ আমা’র উস্তাদের বউ,আমা’র বৌদি।
চাঁপার মেয়েলি’ মন দুজনের সম্পর্কটা’ বুঝতে চেষ্টা’ করে। সবি’তা বুঝতে পারে চাঁপার সাথে সম্পর্ক করাইতে চায় মদনের দিদি।
–ভিতরে আসো।আমা’র ঠাউর-পোরে পছন্দ হইছে?
–পছন্দ হইলেই তো হবে না,কার কুথায় নাও বান্ধা আছে সেইটা’ আসল কথা।
সবি’তা অ’বাক হয় চাঁপার কথা শুনে।জিজ্ঞেস করে,তুমা’র কুথাও বান্ধা নাই তো?
–তাইলে আসতাম নিকি?দিদি ঐটা’র পর তার ভাইয়ের কথা বলতেছিল অ’নেকদিন, আপনের দেওরের তো সুময় হয় না।
–কিসের পর বুঝলাম না।সবি’তা জিজ্ঞেস করে।
–এক জায়গায় প্রায় ঠিক হইয়া গেছিল।
–হইল না ক্যান?
–বাইক চায়।গরীব মা’নুষ আমা’র পরে একটা’ বুইন আছে অ’ত ট্যাকা কই পাইবো বাবায়। তারপর জ্ঞাতি গুষ্টি খাওনের ব্যাপার আছে।
–বৌয়ের পরে চড়ার দরকার নাই বাইক চড় হা’রামী।সবি’তা রাগ প্রকাশ করে।
চাপা খিলখিল করে হেসে ফেলে।মদন বলে,আমা’র কোনো দাবী নাই।
–হ্যায় একটা’ পাস ছিল আপনে তো কুনো পাস না।
–ঠাউর-পোরে তূমা’র পছন্দ কি না?
–সেইটা’ দিদিরে বলবো।
–কেন লজ্জা কি? ঠাউর-পোরে তুমা’র কেমুন লাগে?
–ভাল না লাগলে উনারে করতে দিতাম নিকি?
–কি করতে দিছো?সবি’তা সন্দিগ্ধ চোখে মদনকে দেখে।
চাপা মা’থা নীচু করে বলে,আমা’র হা’ত মুঠায় নিয়া চাপ দিতেছিলেন
–তাই বলো আমি ভাবলাম অ’ন্য কুথাও চাপ দিছে।
–আমি সেই রকম মা’ইয়া না,বি’য়ার আগে ঐসব করতে দিলে অ’নেক আগেই করাইতে পারতাম।
সবি’তা একপাশে মদনকে ডেকে নয়ে গিয়ে চুপি চুপি বলে,উস্তাদ না আসলে কাল দুপুরে একবার আসবা কথা আছে।
ফেরার পথে চাপা বলল,দেখেন উস্তাদের বউ হইলেও উনার সাথে অ’ত গুসুর ঘুসুর করা ঠিক না।কার মনে কি আছে কে কইতে পারে।
সন্ধ্যে হবার মুখে গোলমা’ল শুনে পল্টূ এগিয়ে দেখতে গেল কি ব্যাপার।কাল দিল্লী যাবার কথা মনোরমা’ বাধা দিলেও বলল,দুর থেকে দেখে চলে আসবো।
প্রান্তিকের নীচে ভীড়।একটা’ আসবাব পত্র বোঝাই ট্রাক,দুজন কুলি’ বাধাছাদা করছে। জগো উকিল দেবমা’মা’ রমেনবাবু ছেলে ছোকরারাও আছে।দিলীপ ঠিকই বলেছিল। জগো উকিল বলছেন,যার জিনিস তাকে আসতে হবে।
–তার কথাতেই আমরা এসেছি,তিনি আমা’দের চাবি’ দিয়েছেন।
পল্টু দুরত্ব বাচিয়ে দূর থেকে দেখে চিনতে পারে ভদ্রলোক অ’শোক আগরয়াল।
–সেইটা’ আমরা কি করে বুঝবো?চাবি’ ডূপ্লি’কেট হতে পারে।
ইতি মধ্যে তিনতলা থেকে একটী স্বাস্থ্যবান লোক নেমে আসতে অ’শোকবাবু জিজ্ঞেস করেন,সুকুর সব নেমেছে?
–খাট আলমা’রি ড্রেসিং টেবি’ল–মা’ল তো বেশি না।বইগুলোর জন্য শালা বেশি সময় লাগলো।আর দেরী কোরো না উঠে পড়ো বস।এরা কারা?
–ম্যাডাম না এলে মা’ল নিয়ে যেতে দেবে না।অ’শোকবাবু বলল।
–যার জিনিস তাকে আসতে হবে।জগা উকিল বলল।
–তুই কে বে?সুকুর তেড়ে গেল।
–এই সুকু?অ’শোকবাবু পিছিন থেকে ডাকে।
–আমি হা’ইকোরটের এ্যাডভোকেট।জগা উকিল বলল।
–গাঁড় মেরেছে, শালা হা’ইকোর্ট মা’রানো হচ্ছে?বলেই এক ধাক্কা দিতেই জগা উকিল চিত হয়ে পড়ল।দেবব্রত অ’বস্থা দেখে ভীড়ের মধ্যে মিশে গেল। ধোয়া ছেড়ে লরি চলে গেল।জগো উকিল ধুলো ঝেড়ে উঠে দাড়াল।দেবব্রত বেরিয়ে এসে বলল,দেখি কি করে ফ্লাট বি’ক্রি করে? জলে থেকে কুমীরের সঙ্গে বি’বাদ।লক্ষণটা’ দেখলেন একবার এল না।
–লক্ষণ আসবে না আমি জানতাম।ভীড়ের উদ্দেশ্যে জগা উকিল বলল,তামা’শা দেখো নাকি কাজকাম নাই?
ভীড় পাতলা হতে থাকে।
পল্টুর মনে হল  আর দাঁড়ানো ঠিক হবেনা।দু-পা এগোতেই ভুতের মত দিলীপ সামনে এসে দাড়ালো।
–কিরে তুই?
দিলীপ খিলখিল করে হেসে বলল,আমি অ’ন্ধকারে সাণ্টিং মেরে ছিলাম,তোকে দেখেছি।

চলবে —————————

নতুন ভিডিও গল্প!


Tags: , , , , , ,

Comments are closed here.