সিনিয়র আপু যখন বউ (পর্ব-১৮)

December 27, 2020 | By Admin | Filed in: চটি কাব্য, সিনিয়র আপু যখন বউ.

সিনিয়র আপু যখন বউ (পর্ব-১৭)

View all stories in series

★আমি রাগে এবং ব্যাথায় কেঁদে ফেললাম?
এমন জোরে থাপ্পর দিয়েছে,,, যে আমি 2 মিনিট ধরে আশেপাশের কোন সাউন্ড ঐ পাচ্ছিনা?

তুমি আমাকে এত জোরে
থাপ্পর মারলা কেন? আমি ব্যথা পাই না বুঝি,,তোমার সাথে আমার কোন কথা নাই? কথায় কথায় তুমি শুধু আমাকে মারো,,,,আমি একটু রাগ দেখিয়ে গালে হাত নিচে নেমে যাচ্ছি,,,,

আপু দৌড়ে এসে পিছন থেকে আমাকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরেছে,,,,

(আমি) কি হয়েছে এভাবে জড়িয়ে ধরেছ কেন ছাড়ো বলছি?
(আপু) ছাড়বো বলে তো ধরে নি?
(আমি) তোমার এই জড়িয়ে ধরা আমার ভালো লাগেনা?
(আমি) বদমাশ ছেলে লুচ্চা ছেলে ভাল লাগবে কি করে,,, আর এক মেয়ে জড়িয়ে ধরলে তো খুব ভালো লাগে খুব আরাম লাগে?
(আমি) একদম বাজে কথা বলবে না,,, আমি কাউকে জড়িয়ে ধরি নি?

(আপু) তাহলে রিয়াকে কি করেছিলা বাবু?
(আমি) আমি রিয়াকে কিচ্ছু করি নাই রিয়া আমাকে আবেগে জড়িয়ে ধরেছিল?
(আপু) বদমাইশ ছেলে বিয়া তোকে আবেগে জড়িয়ে ধরল তুই সরলি না কেন?
(আমি) আরে আজিব তো আমি ঐ সময় সরে দাঁড়ালে ও অনেক কষ্ট পেতো?

(আপু) তোরা ছেলেদের কে চিনি কোন মেয়ে জড়িয়ে ধরার জন্য তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকিস?
(আমি) একদম বাজে কথা বলবে না,,, এভাবে জড়িয়ে ধরেছ কেন,,, মেরে আসছে আমাকে জড়িয়ে ধরতে,, গাল গুলো কি করেছো তুমি দেখো?

(আপু) দেখে বাবু কি হয়েছে,,, আমাকে ঘুরিয়ে গালে হাত দিয়ে কিছু হয় নাই তো?

আমি সাথে সাথে পকেট থেকে মোবাইলটা বের করলাম,,, তারপর মোবাইলের স্কিনে গাল গুলো দেখলাম বাপরে বাপ 10 আঙ্গুলের দাগ পড়ে গিয়েছে,,, আর শাকচুন্নি বলছে কিচ্ছু হয় নাই?

(আমি) কি করেছ তুমি এগুলা 10 আঙ্গুলের দাগ ফেলে দিয়েছো আবার বলছো কিছু হয় নাই?
(আপু) আমি কি করবো,,, তুই তো আমাকে রাগ তুলে দিস,,, আমার রাগ উঠে গেলে আমার কোনো চান্স থাকে না,, কিনা কি করে বসি,,, খুব লেগেছে না?

(আমি) না একটুও লাগেনি খুব আরাম পেয়েছি?((( অভিমানী কণ্ঠে)
(আপু) বাবু রাগ করেছো দেখি দেখি?
(আমি) দেখতে হবে না এখন দুইটা পাপ্পি দাও?
(আপু) কিসের পাপ্পি?
(আমি) কিসের পাপ্পি মানে তুমি আমার গালগুলো লাল করে ফেলেছ,,, তোমার সাথে কোন কথা নাই যাও?
(আপু) আরে আমার পিচ্চিটা দেখি সত্যি সত্যি রাগ করেছে,,,, আচ্ছা বাবু চোখ বন্ধ কর?

(আমি) না চোখ বন্ধ করতে পারব না?
(আপু) তাহলে পাপ্পি ও দেব না?
(আমি) কেন চোখ খোলা থাকলে সমস্যা কি?
(আপু) বদমাশ ছেলে আমার লজ্জা করে চোখ বন্ধ কর বলছি??

আমি চোখ বন্ধ করলাম”সাথে সাথে আমার দু গালে দুইটা পাপ্পি দিয়ে,,, লজ্জায় মুখ ঢেকে ফেলল।

(আমি) কি হল মুখ ঢাকলে কেন?
(আপু) বদমাশ ছেলে তুই যা এখান থেকে আমার লজ্জা করছে?

(আমি)তাই নাকি দেখি হাত সরাও লজ্জা পেলে তোমাকে কেমন লাগে?
(আপু)তুই এখান থেকে যাবি লুচ্চা ছেলে,, এ কথা বলে আপু দৌড়ে চলে গেল,,,।

★ আমি আস্তে আস্তে নিচে নামলাম,,, যে দেখি রিয়া ওয়েট করতেছে কেক কাটার জন্য আমাকে দেখে বলল কোথায় গিয়েছিলি,,, কতক্ষণ ধরে অপেক্ষা করতেছি,,, একটু ঐদিকে গিয়েছিলাম এখন কেক কাট,,, রিয়া সব গুলো মোমবাতি নিবে কেক কাটল,,, আমি রিয়ার পাশে দাঁড়ালাম আমার ঠিক পিছনে আপু,,,, সবাই একসাথে রিয়া কে উইশ করলাম,,,, চাচা চাচি কেক তুলে রিয়াকে খাইয়ে দিল,,, রিয়া ও তাদেরকে খাইয়ে দিল,,, তারপর রিয়া একটু কেক তুলে আমাকে খাওয়াতে যাবে,,, এমন রত অবস্থায় আপু আমাকে ধাক্কা দিয়ে আমার সামনে এসে হ্যা করে কেক টা খেয়ে নিল,,,, আমি তা দেখে ব্যাকা ছ্যাকা খেয়ে গেলাম,,,, আমার বন্ধু বান্ধব সবাই ব্যাপারটা লক্ষ্য করেছে,,, রিয়া ও বুঝতে পেরেছে,,, রিয়া আর একটু কেক তুললো,,, আমি আপুকে ফিসফিসিয়ে বললাম,, কি শুরু করে দিয়েছো,,, ও আমার বন্ধু,,, আপু কিছু বলল না,,, তারপর পুরো নাই রিয়া আমাকে খাইয়ে দিল,,, আমিও রিয়াকে খাইয়ে দিলাম?

★সবাই বলতে লাগলো গান গাওয়ার জন্য,,, কে গান করবে,,, সবার দৃষ্টি আমার দিকে,,, কিন্তু আমি শামীমকে ইশারা করে বলে দিলাম আপুর নাম উল্লেখ করে বলতে?

শামীম সবাইকে বলতে লাগলো,,, এভরিবডি গাইস লিসন,,, আজকের রিয়ার জন্মদিন উপলক্ষে,,, আমাদেরকে গান গেয়ে শোনাবেন,,, আমাদের শ্রদ্ধেয়
ইশিতা আপু,,, এ কথা শুনে সবাই হাততালি দেওয়া শুরু করলো,,, ঈশিতা আপু বলতে লাগলো ওই ছেমরা আমি গান পারিনা,,।

সবাই বলতে লাগল গান না পারলেও আজকে গাইতে হবে,,, সবাই চিল্লাফাল্লা শুরু করে দিয়েছে,,,, ঈশিতা আপু আমার দিকে তাকিয়ে আছে,,, রাগে কটমট করছে,,, আমি তার কাছে গেলাম,,, কি হলো কি ভাবছো শুরু করে দাও””” তা না হলে সবাই আজকে তোমাকে ছাড়বে না?

(আপু) বদমাশ ছেলে আমি গান পারিনা?
(আমি) আরে কি বলছো তুমি,,,, তুমি তো আমার প্রেস্টিজ ডুবাবে,,,,, যা পারো তাই ঐ গাও,।
(আপু) তুই আমাকে বিপদে এনে ফেললি””” আর ঐ শামীম ছেমরাকে আমি দেখে নিবো,, আমার নাম উল্লেখ করা?

আমি মনে মনে হাসছি,, আজকে শাকচুন্নি বিপদে ফেলে দিয়েছি,,,এখন মজা বোঝো আমার মনে হয়না শাকচুন্নি গান পারবে,,, আর যাই হোক দেখি শাকচুন্নি কি গান গা,,, কন্ঠ টা কি রকম?

আপু বলতে লাগলো এখানে তো বাজনা নাই মিউজিক নাই,, কি গান গাইবো,,

আমি বললাম সমস্যা নাই গিটার নিয়ে আসছি? আপু আমার দিকে চোখ দুটি বড় করে তাকালো,,, যেন আমাকে গিলে খাবে?

আমি আগে ওই জানি রিয়ার জন্মদিনের গান গাইতে হবে,,, তাই গীটার টা এনে একটু সাইডে রেখে দিয়েছিলাম,,, আমি গিটার টা এনে সবাইকে উদ্দেশ্য করে বললাম এখন শুরু করা যাক,,, আমি 2-3 মিনিট ধরে গিটারে সুর তুলছি,, আপু সাইডে দাঁড়িয়ে আছে,,, হঠাৎ করে আমার হাত থেকে গিটারটা নিয়ে নিল,,, আমি বললাম গিটার নিলে কেন গিটারের তার গুলো তো তুমি ছিড়ে ফেলবে,,, গিটার তো মনে হয় কখনো বাজা যাও নাই,,,

(আপু) তুই চুপ করে বসে থাক?
হায় আল্লাহ আজকে তো সত্যি সত্যি আমার গিটারের বারোটা বাজাবে,, আমার এত দামে গিটার,, না পারবে গান গাইতে না পারবে গিটার বাজাতে,,,,

আপু গিটারটা নিয়ে সোফায় বসল তারপর একটা পাওয়ের উপর আরেকটা পা দিয়ে গিটারের সুর তোলার চেষ্টা করছে,,, 2৷3 মিনিট গিটারের তার গুলো আউলাঝাউলা বাজালো,,, সবাই একটু হাসাহাসি করছে,,,

হায় আল্লাহ আমি কি জন্য বলছিলাম শামীম কে আপু কথা,,, গান তো গাইতে পারবোনাঐ না,,, উল্টা আমার গীটারের বারোটা বাজাবে,,,, আমি কিছু না বলে একটু দূরে সরে গেলাম,,, আমার কাছে শামীম আসলো এসে বলতে লাগল,, কিরে শালা আপুকে তো মাইনকার চিপায় ফেলে দিয়েছি,,,, শালা মাইনকার চিপায় ফেলেছিস ভালো করেছিস কিন্তু আজকে তো আমার গীটারের বারোটা বাজাবে?

শামীম এর সাথে কথা বলতে বলতে হঠাৎ করে মিষ্টি একটা সুর আমার কানে এসে লাগলো আমি থমকে দাঁড়ালাম? আমি খুব স্পিডে মাথাটা ঘুরিয়ে দেখি আপু গিটারের সুর তুলছে,,, খুব মিষ্টি একটা সুর,,, আমি কখনও কল্পনাও করতে পারিনি,, আপু গিটারে এরকম সুর তুলতে পারবে,,, আপুর এরকম সুর তুলা দেখে সবাই আপুর দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে,,, আমিও আপুর দিকে এক দৃষ্টি নিয়ে তাকিয়ে আছি,,,,আমি আপুকে কখনো দেখি নাই গিটার বাজাতে বা গান গাইতে,,,

আপু একমনে ১০ ১২ মিনিট ধরে গিটারটা বাজিয়ে চলছে,,, আমি হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে আছি,,,, আজকে ১০ বছর যাবত
গিটার বাজাচ্ছি আপুর মতো এতো সুন্দর করে গিটার কখনো বাজিয়েছি কিনা আমার মনে হচ্ছে না?

হঠাৎ করে আপু সবাইকে অবাক করে দিয়ে শো মধুর কন্ঠে গান শুরু করলো,,

মিলি হো তুম হাম কো বড় নছিবো ছে”ছোরা ইয়া হে মেনে,, কিস মত কি লাকি জো ছে?

আমি আপুর কন্ঠ শুনে টাসকি খেয়ে গেলাম,,আপু এরকম সুন্দর সুর দিয়ে হিন্দি গান গাইতে পারে তা আমি কল্পনা ও করিনি,,,অরজিনাল ভাবে যে গানটা গেয়েছে সে শুনলে ও টাসকি খেয়ে যেত?

আপু গান শেষ করার পর সবাই সাথে তালি দিতে শুরু করলো,,,আমি ও আপু গানে মুগ্ধ হয়ে তালি দিচ্ছি? আপু আমার সামনে এসে একটা হাসি দিল,,,, সে হাসি দেখে আমি আবার ও ক্রাশ খেয়েলাম,,,

আপু আমার হাতে গিটারটা দিয়ে মুচকি হাসি দিয়ে বললো,,,কি ভেবে ছিলি,,,আমি গান পারি না গিটার বাজাতে পারি না?

(আমি)তো তো তুমি এগুলা শিখলা কোথায় থেকে?

আপু একটু হেসে আর তোতলাতে হবে না,,এখন তুই গান গা,,,আপু সবাইকে উদ্দেশ্য করে বলল এখন ফারাবী গান গাইবে,,,,

কি আর করা আমি একটা গান গাইলাম,,, আমি গান গাওয়ার সময় আপু এক দৃষ্টি নিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে ছিল,,,, জানিনা আপু হয়তো আমার গানে মধ্যে ডুবেছিল,,,,, গান গাওয়া শেষ হওয়ার পর সবাই আমাকে হাততালি দিয়ে অভিবাদন জানালো,,, কিন্তু শাকচুন্নি হাত তালি দেই নাই,,, আমি শাকচুন্নির দিকে তাকালাম শাকচুন্নি একটা মুচকি হাসি দিলো?
আমি শাকচুন্নি কে ইশারায় বোঝালাম,, হাততালি দেও নাই কেন,,,, শাকচুন্নি বিড়বিড় করে কি জানিয়ে বলল আমি শুনতে পাই নাই,,,, হয়তো বলেছে এটা কোন গান হইলো,,, শাকচুন্নি তোকে আমি পরে মজা বুঝাবো,,, আমার গান শুনে হাততালি দেয় না এমন মানুষ নাই?

★ সবাই আমাকে রিকুয়েস্ট করতেছে আর একটা গান গাওয়ার জন্য,,, কিন্তু না আমি আর গান গাইবো না,,, আমি রিয়াকে বললাম রিয়া তোর সাথে আমার কিছু কথা আছে,,,

(রিয়া) কি কথা?
(আমি) আগে ছাদে চল তারপর বলছি?
(রিয়া) কি কথা এখানে বল?
(আমি) আরে আমি না,,, শামীম তোকে কিছু বলবে?
(রিয়া) আমার সাথে ওর কি কথা থাকতে পারে?
(আমি) অনেক কথা ঐ তো থাকতে পারে প্লীজ চল না?
(রিয়া আচ্ছা ঠিক আছে আমি যাচ্ছি?

রিয়া ছাদে চলে গেল,, আমি শামীম কে বুঝিয়ে রিয়ার পিছনে পাঠালাম,,, আমি বললাম তুই রিয়াকে সুন্দর করে প্রোপোজ করবি,,, বাকিটা আমি দেখে নিবো?

রিয়া ছাদের এক কনারে দাঁড়িয়ে আছে,,, শামীম আস্তে আস্তে রিয়ার সামনে গেল,,,
রিয়া ঘুরে শামীম কে বলল,, কি কথা বলবেন বলেন,,,

শামীম সাথে সাথে পকেট থেকে নুপুর গুলো বের করে হাঁটু গেড়ে বসে বলতে লাগলো,,, রিয়া আমি জানিনা কি জন্য তুমি বারবার আমাকে রিফিউজ করো,,, কিন্তু আমি সত্যি সত্যি তোমাকে অনেক ভালোবাসি,,, আজকে তিনটা বছর তোমার পিছনে পাগলের মত ঘুরছি,, তোমার মুখে একবার হা শব্দটা শোনার জন্য,,, আমার ওপর বিশ্বাস রাখো,,, তোমার সাথে কখনো প্রেমের নামে ছলনা করবো না,, জীবনের শেষ নিঃশ্বাসটুকু থাকা পর্যন্ত আমি তোমার পাশে থাকব,,, তোমাকে অনেক ভালোবাসবো,,, তুমি হয়তো জানো না আমার দিনের সকাল শুরু হয় তোমাকে নিয়ে এবং সন্ধ্যা রজনী শেষ হয় তোমাকে নিয়ে,,, সত্যি আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি,,,,, প্লিজ আজকে তুমি আমাকে রিফিউজ করো না,,, তাহলে সত্যি সত্যি আজকে আমি কিছু একটা করে বসবো?

(রিয়া) দেখেন আমি আপনাকে আগেই বলেছি আমি আপনাকে ভালবাসতে পারব না?
(শামীম) কেন পারবে না,,, আমাকে কি তোমার পছন্দ হয় নাই,,, নাকি আমি দেখতে খারাপ,,,।

(রিয়া) আপনি দেখতে খারাপ আমি সে কথা বলি নাই,,,।

(শামীম) তাহলে সমস্যা কি কেন বার বার আমাকে রিফিউজ করছো?

(রিয়া) আসলে আমি একজনকে ভালোবাসি?

(শামীম) কে সে,,, নিশ্চয় ফারাবী?

(রিয়া)হ্যা?

(শামীম) কিন্তু ফারাবী তো তোমাকে ভালোবাসে না,,,

(রিয়া) আমি জানি,,, আমি আমার মনের কথাগুলো ওকে ঠিক সময় জানাতে পারেনি,,,, কিন্তু আমি ওকে পুরোদমে ভালোবাসি,,, ওকে কখনো ভুলে আপনাকে ভালবাসতে পারবনা,,, শুধু শুধু আপনি আমার কাছ থেকে আরো কষ্ট পাবেন?

আমি এতক্ষণ ধরে ছাদে ওঠার সিঁড়ির মধ্যে দাঁড়িয়ে ছিলাম,,, আমি আস্তে আস্তে রিয়ার কাছে গেলাম,, রিয়া একটু অপ্রস্তুত হয়ে গেল,,,, দেখ রিয়া একতরফা কখনো ভালবাসা হয় না,,, আমি তোকে সব সময় বন্ধু বন্ধুঐ ভেবে এসেছি,,,, বন্ধুর বাহিরে কখনো ভাবি নাই,,,, আর মরার আগ পর্যন্ত আমার ভালো বন্ধু হয়ে থাকবি,,, আসলে ভালোবাসাটা অনুভব করার বিষয়,,,, প্রকৃত ভালোবাসা টা তখনই মধুর হয়,,, যখন একজনের মনের কথা আরেক জন উপলব্ধি করতে পারে বা অনুভব করতে পারে। শামীম ও আমার বন্ধু,,, ওর সম্পর্কে আমার চেয়ে বেশি কেউ জানে না,,, 7 ঘণ্টা ধরে ঘুরে তোর পছন্দের নূপুরগুলো এনেছে। তোকে ও অনেক ভালোবাসে,,, আজকে তিনটা বছর যাবত ও তোর পিছনে ঘুরছে,,, সারাদিন চলতে গেলে খাইতে গেলে তোর কথা বলে,,,, এরকম ভালোবাসা অবহেলা করলে পরে পস্তাবি,,, তখন হাজার খুঁজলেও এরকম ভালোবাসা পাবি না,,, আমার বিশ্বাস শামীম তোকে অনেক সুখে রাখবে,,, প্লিজ ওকে তুই ফিরিয়ে দিস না,,,।

(রিয়া) দেখ ফারাবী আমি তোর কথাটা রাখতে পারবো না?
(আমি) বন্ধুত্বের কোনো দাম নাই তোর কাছে,,, আমি এত করে তোকে বুঝাচ্ছি,,, তারপরও কি জন্য তুই বুঝতে পারছিস না।
আরে পাগল আমি তোকে কথা দিচ্ছি,,, আমি সব সময় বন্ধু হয়ে তোর পাশে থাকবো,,,, তুই কি চাস আমি তোর জীবন থেকে হারিয়ে যাই?

(রিয়া) দেখ ফারাবী মানুষের মন একটাই একবার কাউকে দিয়ে ফেললে,,, সে জায়গায় আর কাউকে বসানো যায় না?

(আমি) একতরফা কাউকে মনের ভিতরে জায়গা দিলে,, সে জায়গা থেকে শুধু কষ্টে ঐ আসবে,,, আমি তোর বন্ধু হয়ে বলছি,,, শামীম ছেলেটা ভালো তুই একবার ওকে বিশ্বাস করে দেখ,,,,, দুদিন পরে আমি যে তোর বন্ধু,,, আমাকে ঐ ভুলে যাবি?

(রিয়া) কক্ষনো না?
(আমি) তুই আমার কোন কথা শুনবি না?
(রিয়া)না আমি তোর এ কথাগুলো রাখতে পারছিনা?

(আমি) রাখতে পারবি না তো?
(রিয়া)না?
(আমি) আর কখনো আমি তোর সামনে আসবো না,,, বন্ধুত্বের ইতি এখানেই শেষ করে দিলাম?

(রিয়া) তুই এটা বলতে পারলি?
(আমি) কেন বলতে পারবো না,,, যে বন্ধু একজন বন্ধুর কথা রাখতে পারে না,,, তার সাথে কোনো বন্ধুত্ব নাই?

শামীম উঠে ছাদ থেকে নিচে নেমে যাচ্ছে,,।

(আমি) দেখ রিয়া ও কষ্ট পেয়ে নিচে নেমে যাচ্ছে,, তুই যদি আমার বন্ধু হয়ে থাকিস,, তাহলে ওকে আটকা।

(রিয়া)না আমি পারবো না?
(আমি) পারবি না তো আচ্ছা আমিও ওর সাথে চলে যাচ্ছি,,, আর কখনো তোর সামনে আসবো না,,,, আমি ঘুরে নিচে নেমে যাচ্ছি,, হঠাৎ করে পিছন থেকে কে যেন আমাকে টেনে ধরল,,,, পেছন ঘুরে দেখি রিয়া?
(আমি) আটকালী কেনো?
(রিয়া) তোর বন্ধু শামীমকে বল আস্তে।
(আমি) আমি পারবো না ও কষ্টকে পেয়ে চলে যাচ্ছে তুই গিয়ে ওকে আটকা।

রিয়া দৌড়ে বিয়ে শামীম’এর হাত ধরল,,
শামীম অবাক হয়ে গেল,,, একটু ভাব নেবার জন্য বলতে লাগলো,,, হাত ধরোছো কেন ছাড়ো?
(রিয়া) ছাঁদে আসো?
(শামীম) কেন ছাদে গিয়ে কি করবো,, তুমি তো আমাকে ভালোবাসো না?
(রিয়া) এত কথা বল কেন আমি বলছি ছাদে আসার জন্য?

শামীম এবং রিয়া ছাদে আসলো,, পাশাপাশি দুজন দাঁড়িয়ে আছে কেউই কোনো কথা বলছে না,,,, কি হলো শালা দাঁড়িয়ে আছিস কেন,,, নতুন করে প্রপোজ কর,,, সাথে সাথে শামীম হাঁটু গেড়ে বসে নুপুর গুলো দিয়ে প্রপোজ করল,,, রিয়া শামীম এর হাত থেকে নুপুর গুলো নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে,,, বেচারা শামিম কিছু বলতে পারছে না,,,,

(আমি) কি হলো রিয়া দাঁড়িয়ে আছিস কেন?
(রিয়া) তো কি করবো?
(আমি) জড়িয়ে ধর?
(রিয়া) শয়তান ছেলে তুই যা এখান থেকে?
(আমি) আচ্ছা আচ্ছা আমি যাচ্ছি তাদের কথা বলা শেষ হলে আমাকে ডাক দিস?

আমি ছাদ থেকে নিচে নামছি আর মনে মনে বলছি আমার শাকচুন্নি বড় আপু টা গেলে কই,,, নিচে নেমে সারা জায়গায় খুজলাম,,, কিন্তু আপুকে কোথাও পাচ্ছি না,,, দিলাম একটা ফোন,,, শাকচুন্নি ফোন ধরে বলতে লাগলো?

(আপু) ফোন দিয়েছিস কেন?
(আমি) আরে কি বলছো কি হল আবার?
(আপু) কি হব তুই গিয়ে রিয়ার সাথে ছাদে কোলাকুলি কর?
(আমি) আমি কোলাকুলি করব কেন রিয়াকে তো শামিমের সাথে জোড়া লাগিয়ে দিয়েছি,,, শামীমা আর রিয়া এখন ছাদে কোলাকুলি করছে,,,
(আপু) বদমাইশ ছেলে তুই ঐ জায়গায় কি করছিলি?
(আমি) আরে আমি তো ওদেরক জোড়াটা লাগিয়ে দিয়েছি?
(আপু) তোর জোড়া লাগেনি আমি বের করবো,,, তুই আগে বাসায় আয়?
(আমি)কার বাসায়?
(আপু) কেন তোদের বাসায়?
(আমি) তুমি আমাদের বাসায় কি কর?
(আপু) খালাম্মা + শাশুমার সাথে কথা বলছি।
(আমি) দেখো আপু তুমি আম্মুর সাথে এখন কিছু বলো না,,, আমি পরে আম্মুকে সব বুঝিয়ে বলবো?
(আপু) তোর আপুর গুষ্টি কিলাই তুই তাড়াতাড়ি বাসায় আয়,,,
(আমি) আচ্ছা ঠিক আছে আসছি আমি?

ফোনটা কেটে দিলাম দু মিনিট পরে রিয়া ফোন দিল আমিও পুরো নাই আবার ছাদে গেলাম,,, যেয়ে দেখি দুজনে দাঁড়িয়ে হেসে কথা বলছে,,, শামীম একটু সামনে এসে বলল শালা তুই রিয়ার সাথে এখন যত কথা কম বলবি,,, ততো ঐ আমার জন্য ভালো,,,, আচ্ছা ঠিক আছে কম কথা বলব,,, এখন আমি যাওয়ার পরে রিয়া কি কি করেছে,,,
)শামিম) কে কি করবে,,, বলেছে এগুলো পরিয়ে দেওয়ার জন্য,,, পরিয়ে দিয়েছে বাস,,,
(আমি) তোকে জড়িয়ে ধরে নাই?
(শামিম) শালা পাঁচ মিনিট জড়িয়ে ধরে দাঁড়িয়ে ছিল,,, আর কেঁদে কেঁদে কি বলল জানিস।
(আমি) কি বললো?
(শামিম) আমি যেন ওকে কষ্ট না দেয়।
(আমি) শাল কষ্ট দিবি কেন তোকে তো আমি খেয়ে ফেলবো,, ও আমার বন্ধু।

আমরা দুজন রিয়ার কাছে গেলাম রিয়া একটু আনমনা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে,,, আমি বললাম কি হলো রিয়া এভাবে দাঁড়িয়ে আছিস কেন,,, না কিছু না,,, তাহলে তোরা থাক গল্পগুজব কর আমি বাসায় যাই।

শামিম? বাসে যাবি কেন?
(আমি) আরে খুব খিদা লেগেছে?
(শামিম) তাহলে চল খেয়ে আসি?
(আমি) কোথায় থেকে খেয়ে আসবো?
(শামিম) কেন রেস্টুরেন্টে যাব?
(আমি)তাই নাকি,,, তাহলে চল,,, আমি তো মনে মনে এটাই চাচ্ছি,।

আমরা তিন জন নিচে নামলাম,,, বাইক একটা কিভাবে তিনজন যাব,,, আর শাকচুন্নি কে ফেলে যাব,,, শাকচুন্নি তো বলেছে,, কিছুক্ষনের ভিতর বাসায় যাওয়ার জন্য,,,, শামীম বলল আপুকে একটা ফোন দে,, আমি শাকচুন্নি কে একটা ফোন দিলাম,,,, বললাম রেডি হয়ে গেটের কাছে দাঁড়িয়ে থাকতে,,,, তারপর 1টা রিস্কা নিয়ে বাসে চলে গেলাম,,, যেয়ে দেখি ইশিতা আপু সেজেগুজে গেটের সামনে দাঁড়িয়ে আছি,,, আমি রিসকা থেকে নেমে আমার বাইক টা বের করলাম তারপর শাকচুন্নি কে বল্লাম পিছনে উঠার জন্য,,, শাকচুন্নি কিছু না বলে পিছনে উঠে বসলো,,, এক হাত দিয়ে আমার কাধে ধরে আছে,,, আমি বললাম তুমি কি আম্মু কে কিছু বলেছো,,,,, কি বলবো,,, আমাদের কথা,,,না কিছু বলিনি,,, এমনি খালামণিকে দেখতে গিয়েছিলাম,,, খালামণি বললো আজকের রাতটা তোদের বাসায় থেকে যেতে,,,, তারপর তুমি কি বললে,,,,, আমিতো একপায়ে ঐ রাজি,,,,, খাইছে আমারে শাকচুন্নি থাকলে তো আমার ঘুমের বারোটা বাজাবে,,,,

(আপু) এখন আমরা কোথায় যাচ্ছি,।
(আমি) শামীমেরকে রিয়ার সাথে জোড়া লাগিয়ে দিয়েছি,,, সেজন্য শামীম ট্রিট দিবে।
(আপু) তুই রিয়ার সাথে ছাদে কী করছিলি?

(আমি) আমি কি করব রিয়াকে বুঝাচ্ছিলাম,, অনেক বুঝিয়ে সুঝিয়ে রাজি করেছি,,,।
(আপু) রিয়ার সাথে তুই কিন্তু কম মিশবি।
(আমি) রিয়া তো এখন আমার সাথে মিশার টাইম ঐ পাবে না,,,।

এ কথা বলতে বলতে ওদের কাছে চলে আসলাম,,, রিয়া শামীমের বাইকের পিছনে উঠেছে,,, আর শাকচুন্নি তো আমার পিছনে আগেই আছে,,, শামীম বাইক একটু স্পিডে চালাচ্ছে,,, আমি বুঝতে পেরেছি,, রিয়া যেন ওকে জড়িয়ে ধরে,,,, আমি শামিমকে জোরে উদ্দেশ্য করে বললাম বাইকে কি আর স্পিড নাই,,, শামীম আরোহী স্পিড বাড়িয়ে দিলে,,, ততক্ষণে রিয়া শামীমকে একটু জড়িয়ে ধরেছে,,, শামীম আমার বাইকের একটু আগে আমি একটু পেছনে পড়ে গেলাম,,,

কিন্তু আমার শাকচুন্নির বলতে শুরু করল,,, কি হলো বাইক চালাতে পারিস না,, ও তোর আগে যায় কিভাবে,,,,

আরে ও কি জন্য স্পিডে চালাচ্ছে ও তুমি বুঝতে পারছো না,,,,

(আপু) আমার বোঝার দরকার নাই,, তুই ওর আগে থাক,,,
(আমি) তাহলে আমাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরো।
(আপু) তুই আগে স্পিড বাড়া?
কি আর করা দিলাম স্পিড বাড়িয়ে,, সাথে সাথে আমাকে আষ্টেপিষ্টে জড়িয়ে ধরেছে,,, আমি আরো স্পিড বাড়িয়ে দিলাম,, ততক্ষনে শামীম আমার পিছনে পড়ে গেছে,,, এবার আমি একটু স্পিড কমিয়ে দিলাম,,,, অনেকক্ষণ ইস্পিড পালাবদল করে রেস্টুরেন্টে গিয়ে পৌছালাম,,,,

একটা টেবিলে আমরা চারজন বসলাম,,, হঠাৎ করে আমাদের টেবিলে একটা মেয়ে আসলো খাবারের অর্ডার নেওয়ার জন্য,,, মেয়েটার দিকে আমি তাকিয়ে টাস্কি খেয়ে গেলাম,,, জিন্সের প্যান্ট সাদা শার্ট চুলগুলো একটু স্টাইলিশ করে বাধা,,, ঠোঁটে হাল্কা গোলাপি লিপস্টিক,,, চেহারার ফেস কাটিং খুবই সুন্দর,,, আমি মেয়েটার দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছি,,, ঈশিতা আপু যে এখানে আছে আমার মনে ওই নাই,,,, মেয়েটার ডাকে ঘোর কাটল ভাইয়া অর্ডার দিবেন না,,,, আমি শাকচুন্নির দিকে তাকালাম,,, হায় আল্লাহ আমি শেষ,,,, এমন ভাবে শাকচুন্নি আমার দিকে তাকিয়ে আছে,,, চোখের পলক একটু পড়ছে না।
আমি শামীমকে আস্তে করে বললাম অর্ডার দে।

শামীম অর্ডার দিল মেয়েটা অর্ডার নিয়ে চলে যাচ্ছে এমন সময় আপু মেয়েটাকে উদ্দেশ্য করে বলতে লাগল,,, খাবার গুলো অন্য ওয়েটারকে দিয়ে এখানে পাঠাবেন,,, মেয়েটা আচ্ছা বলে চলে গেল,,, মেয়েটা চলে যাওয়ার পর শাকচুন্নি আমাকে বলল দাড়া,,, আমি বললাম কেন দাড়াবো কেন,,,, তোকে বলছি দাঁড়াতে দাঁড়া,,,, আমি দাড়ালাম,, দেখো এখানে কিন্তু আমাকে থাপ্পর দিবানা একানে বহুৎ লোক আছে,,,

(((চলবে))??

নতুন ভিডিও গল্প!


Tags: , , , , , , , , ,